আনন্দবাজারে আস্থা যাদের…

untitled1

হারুন উর রশীদ:
কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে ২১ সেপ্টেম্বর একটি সংবাদের শিরোনাম ছিল-‘বঙ্গবন্ধুর খুনীকে কানাডা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ’।
আর খবরটির প্রথম দুই প্যারা হল,‘বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে সে দেশের ফেডারেল কোর্ট। গত সোমবার তাঁর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিল করে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমানে কানাডায় অবৈধ ভাবে বসবাস করছেন নূর চৌধুরী। সরকার ইচ্ছা করলে যে কোনও মূহুর্তে তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করতে পারে।’
‘আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গিয়েছে, কানাডা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই নূর চৌধুরীকে দেশে আনার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্র জানান, কানাডায় আইনী লড়াইয়ে নূর চৌধুরী হেরে গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর ফলপ্রসূ আলোচনার পর বাংলাদেশের অনুরোধ রেখেছে বন্ধুপ্রতীম দেশটি। এ বার তাঁকে দেশে ফেরত আনার পালা।’
প্রতিবেদন বিশ্লেষণ:
কেউ যদি এই প্রতিবেদনের পুরোটা পড়েন তাহলে দেখবেন প্রতিবেদনটির তথ্যসূত্র এবং গাঁথুনি খুবই দুর্বল। খরটি পরিবেশন করা হয়েছে নিজস্ব সংবাদদাতার নামে। কিন্তু তথ্য আছে বাংলাদেশ ও কানাডার। প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে ওই নিজস্ব সংবাদদাতা বাংলাদেশ, কানাডা না কোলকাতার? যদি কোলকাতার হন, তাহলে তিনি এই তথ্য কোথায় পেলেন? তার সুনির্দিষ্ট তথ্যসূত্র থাকতে হবে। আর বাংলাদেশ বা কানাডার হলে নিশ্চয়ই নিজস্ব সংবাদদাতা, কানাডা অথবা নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলাদেশ উল্লেখ থাকতো। পত্রিকাটি যেহেতু কোলকাতার তাই কোলকাতা শব্দটি নিজস্ব সংবাদদাতার সঙ্গে লেখা হয়নি। এটাই সাধারণ রীতি।
এবার আসি তথ্যের বিষয়ে। লেখা হয়েছে আইনমন্ত্রণালয় সূত্রে জানাগেছে। তাহলে প্রশ্ন এটা কোন দেশের আইনমন্ত্রণালয়? বাংলাদেশ, ভারত না কানাডার? এসবের কিছুই নাই প্রতিবেদনে। এমনকি এই বিষয়ে দায়িত্বশীল বাংলাদেশ বা কানাডার কোন ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে একটি শব্দও নেই।’
প্রতিবেদনে বার বার সরকার কথাটি বলা হয়েছে। কিন্তু কোন দেশের সরকার তা বলা হয়নি একবারও।

untitled
তারা কপি করল:
এরকম একটি দুর্বল এবং সূত্রহীন খবর বাংলাদেশের দু’একটি জাতীয় পত্রিকা এবং কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল হুবহু কপি করেছে। কেউ আনন্দবাজারকে ক্রেডিট দিয়েছে আবার কেউ নিজস্ব প্রতিবেদন বলে চালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু বাংলাদেশের তাই আনন্দবজারের তথ্য এখান থেকে ক্রসচেক করার সুযোগ ছিল। এবং এটা করাই সাংবাদিকতার নীতি। কিন্তু তা না করে আনন্দবাজারের ওপর ‘অগাধ আস্থা’ রেখে তারা কপি করে ছেঁপে দিয়েছেন।
অবশেষে আনন্দবাজার ডুবল, ডুবল অনুসারীরা:
অবশেষে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক শনিবার(২৪.০৯.১৬) সংবাদ মাধ্যমকে বললেন,‘ ‘নূর চৌধুরীকে বহিষ্কারের খবর সত্য নয়’। তিনি সচিবালয়ে জানান,‘ ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যম এ বিষয়ে খবর প্রকাশ হলে বর্তমানে নিউইয়র্ক সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন দেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আমরা দুইজন আলোচনার পর এ খবরের সত্যতা যাচাই করতে কানাডায় বাংলাদেশের হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কানাডার হাই কমিশনার আমাদের জানান, এই সংবাদটি সর্বৈব অসত্য। তিনি তার জায়গা থেকে কনফার্ম করেছেন এটার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের হাইকমিশনার কানাডার সাংবাদিকদের পাশাপাশি নূর চৌধুরীর আইনজীবীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। এছাড়া কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ডেস্কেও হাই কমিশনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে ওই সংবাদের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।’
এখনই সাবধান হওয়া দরকার:
ছোটবেলা থেকেই আনন্দবাজার পত্রিকার কথা শুনে এসেছি। ভারতের সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা দৈনিক। তবে তার হাল এখন কেমন তা আমাকে জানিয়েছেন জার্মানিতে বসবাসরত আমার এক সাংবাদিক বন্ধু। তিনি বলেছেন,‘ আনন্দবাজার আসলেই আনন্দ বাজারে পরিণত হয়েছে। আর বাংলাদেশের অনলাইন বাজার পেতে বাংলাদেশ কেন্দ্রিক মুখরোচক ও ভুয়া খবরে এখন তারাই শীর্ষে।’
আনন্দবাজারের ভূত এরইমধ্যে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে ঘোরাফেরা শুরু করেছে। অতএব এখনই সাবধান হওয়া প্রয়োজন।
কলাবাগান, ঢাকা
২৪.০৯.২০১৬

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s