জ্ঞানের নারী-পুরুষ

14448865_10154633317257941_3428879567388034807_n

হারুন উর রশীদ:
মজা যে কেউ পেতেই পারেন। মজা করতে তো আর বাধা দেয়া যায়না। তবে বিনোদন এবং মজা পাওয়ার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আর কখনো কখনো মজা করতে গিয়ে আমরা কিন্তু আমাদের আসল চরিত্র প্রকাশ করে ফেলি। ধরা পরে যাই। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ছাত্রীদের সহ-শিক্ষার আন্দোলন নিয়ে যারা মজা করছেন তারা কী কারণে করছেন তা কি বুঝতে পারছেন? বিষয়টি নতুন । আর অনেকের কাছে মনে হতে পারে ছাত্রীরা ছাত্রদের ভর্তির দাবীতে মাঠে নেমেছে এ আবার কেমন কথা! দেশ কি গোল্লায় গেল?
এবার আমি একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেই। পৃথিবীতে এমন কোন জ্ঞান বা বিদ্যা আছে কিনা যা শুধু নারী বা পুরুষের জন্য? জ্ঞানের নারী-পুরুষ আছে এটা আমার কাছে এক হাস্যকর চিন্তা মনে হয়। কিন্তু আমার কাছে হাস্যকর মনে হলে কী হবে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে কিন্তু তাই। এই কলেজে মনে করা হয় এখানে যা পড়ানো হয় তা একমাত্র নারীদেরই পড়ার বিষয়, পুরুষের নয়। আর আমাদের সমাজের কেউ কেউ হয়তো তাই মনে করেন।
তাইতো গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ছাত্রীরা যখন সহ-শিক্ষার আন্দোলনে মাঠে নামছেন। মিছিল করছেন। তারা জ্ঞানের মুক্তি চাইছেন। চাইছেন সার্বজনীনতা। তারা যখন এই সার্বজনীন দাবীতে স্মারক লিপি দিচ্ছেন তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ কুৎসিত মন্তব্য করে হস্যরস করছেন। তারা নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ বলছেন ‘ এই নারীদের পুরুষ সঙ্গী ছাড়া ভাল লাগেনা। তাই তারা আন্দোলন করছেন।’ ‘ একা একা কেন ভাল লাগেনা…..’ ইত্যাদি। আমি এখানে তাদের সবচেয়ে ‘ভাল’ দু’টি মন্তব্য এখানে প্রকাশ করলাম। বাকি অনেক মন্তব্য প্রকাশযোগ্য নয়।
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে মোট ৫টি বিষয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স কোর্স রয়েছে।
১. খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান
২. সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্টারপ্রেণরশিপ
৩. শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক
৪. শিল্পকলা ও সৃজনশীল শিক্ষা
৫. বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প
এই পাঁচটি প্রধান বিষয় কি শুধুমাত্র নারীরাই পড়বে, পুরুষদের জন্য হারাম? এই জ্ঞান কি শুধুই নারীদের প্রয়োজন? পুরুষের প্রযোয়াজন নেই? জ্ঞানের কিভাবে নারী-পুরষ হয়! জেন্ডার বৈষম্য হয়!
আমি কয়েকদিন আগে আন্দোলনরত ছাত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের প্রশ্ন করছি ছাত্ররা ওখানে ভর্তির জন্য আন্দোলন করছে না, আপনারা কেন তাদের জন্য আন্দোলন করছেন? প্রশ্নের জবাব শুনে আমি বুঝলাম তাদের ধারণা অত্যন্ত স্বচ্ছ। তারা জবাবে বললেন,‘ শিক্ষাতো মানুষের জন্য। নারী বা পুরুষের জন্য আলাদা কিছু নয়। আমাদের যে বিষয়গুলো পড়ান হয় তা নাকি শুধু নারীদেরই পড়ার বিষয়। আর যখন কোন কিছু শুধু নারীদের জন্যই হয় তখন আমাদের সমাজ তাকে মনে করে ওটাতো ঘরের কাজ। রান্নাবান্না আবার কোন পড়ার বিষয় হলো? আমরা এই বৈষম্যের অবসান চাই। আর আমরা যে বিষয়গুলো পড়ি তা সার্বজনীন। শুধু নারীদের নয়।’
তাদের কথা আমাকে ভাবায়। আমার চিন্তায় ঝাঁকুনি দেয়। আমি ভাবি বিশ্বের একমাত্র দেশ বাংলাদেশ যেখানে জ্ঞানের নারী-পুরুষ ভেদ আছে। যেখানে এখনো কিছু জ্ঞান আছে যা শুধু নারীদের জন্যই, পুরুষের জন্য নয়। অথবা ওই জ্ঞানে জ্ঞানী হলে পুরুষের জাত যাবে। পুরুষ নারী হয়ে যাবে। আর তাই যদি হয় তাহলেতো সর্বনাশ! কারণ আমাদের সমাজে এখনো নারী মানে অন্যকিছু, দুর্বল-ভীরু। নারীকে মানুষ ভাবা এখনো অনেক দূর!
কলাবাগান, ঢাকা
২৭.০৯.২০১৬

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s