পুলিশ নিজেও কি পারে?

%e0%a6%ac%e0%a6%ac%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%ac

হারুন উর রশীদ:
সুন্দরবন বাঁচাও সাইকেল মিছিল নিয়ে একটি খবর আমার মনযোগ কেড়েছে। আমি আমার ফেসবুক ওয়ালে খবরটি শেয়ারও করেছি। খবরটির শিরোনাম হলো-‘ছাত্রলীগের পাঁচটা ছেলের সঙ্গে পারো না, আবার কিসের আন্দোলন’। খবরটির সঙ্গে ভিডিও আছে। ফলে খবরটি যে যথার্থ তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। আর খবরটি প্রকাশ করেছে বাংলা ট্রিবিউন।
খবরটির মূল কথা হলো- শুক্রবার(৩০.০৯.১৬) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘বাঁচাও সুন্দরবন’ স্লোগানে সাইকেল মিছিল এগোনোর পথে বাধা দেয়ার এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদরেকে উদ্দেশ্য করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন অতরিক্তি উপ কমশিনার বলেন,‘ছাত্রলীগের পাঁচটা ছেলের সঙ্গে পারো না,আবার কিসের আন্দোলন।’

ঘটনাটি আরেকটু খোলাসা করি- শুক্রবার শহীদ মিনারে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সাইকেল মিছিল কর্মসূচির লোকজন। আর তাদের অবেরোধ বা বাধা দেন রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র চান এরকম কিছু তরুন। শহীদ মিনারে বাধার মুখে পড়ে সাইকেলের বদলে পায়ে হেঁটে মিছিল করে প্রেসক্লাবে যায় আন্দোলনকারীরা। সেখানেও তাদের অবস্থান করতে বাধা দেয় পুলিশ। বাধার মুখে পড়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এসময় প্রেসক্লাবের সামনে দায়িত্বরত অতিরিক্ত উপ কমিশনার আজিম আন্দোলনকারীদের বলেন,‘কিছু বলি না, কি মনে করছো, তাড়াতাড়ি পাঁচ মিনিট।’ (মানে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ভাগো)

এসময় আন্দোলনকারীরা তাকে বলেন,‘আপনারা যা পারেন করেন, আমরা দেখি।’
জবাবে অতিরিক্ত উপ কমিশনার আজিম আন্দোলনকারীদের বলেন, ‘কী দেখবি ব্যাটা,ছাত্রলীগের পাঁচটা ছেলের লগে পারছ না,কী দেখবি?আবার বড় বড় কথা বলে।’
আরো খবর আছে। দোয়েল চত্বরে আবার এই সাইকেল মিছিলকে ঠেকাতে পুলিশ জলকামানও ব্যবহার করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যার শিরোনাম হয়-‘ সাইকেল ঠেকাতে কামান!’

14463079_1083322028389800_4695682082836214939_n
যা বলছিলাম পুলিশ কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের পাঁচটি ছেলে প্রসঙ্গে। ওই প্রতিবেদন ফেসবুকে শেয়ার করার পর আমার ওয়াল থেকেই শতাধিক শেয়ার হয়েছে গত ২৪ ঘন্টায়। আর মন্তব্য এসছে প্রচুর। তারমধ্যে একটি মন্তব্য আমার বেশ মনে ধরেছে। সীমান্ত সারোয়ার নামে একজন ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে উেেদ্দশ্য করে লিখেছেন,‘ উনি নিজে কি পারেন দুই জন ছাত্রলীগের সঙ্গে।’
ছাত্রলীগ নিজে সাইকেল মিছিলে বাধা বা ঘেরাওয়ের কথা অস্বীকার করলেও  পুলিশ কর্মকর্তা কিন্তু নিজের অজান্তেই তা প্রকাশ করে দিলেন। ভালই, ছাত্রলীগের ক্ষমতার প্রতি পুলিশের আস্থা আছে। সেজন্যই হয়তো পুলিশ তাদের সমর্থনে সাইকেল ঠেকাতে কামান ( জলকামান) ব্যবহার করেন। শক্তিমানের সমর্থনে পুলিশ থাকবে এটাতো স্বাভাবিক নিয়ম! তাই পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি আমারও প্রশ্ন, পুলিশ নিজেও কি পারে ছাত্রলীগের সঙ্গে?
কলাবাগান , ঢাকা
০১.১০.২০১৬

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s