পাকিস্তানের সঙ্গে ঝগড়া-সম্পর্ক: একই সংবাদের বাংলাদেশ ও ভারতীয় স্টাইল

pm-breifing-pmo-620x330
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে ভারত, পাকিস্তান এবং সার্কের বিষয় প্রাধান্য পায়। সাংবাকিদরা ওইসব বিষয় নিয়ে প্রশ্নেও আগ্রহী ছিলেন। আর সেটা থাকাই পেশাদার সাংবাদিকতার বৈশিষ্ট্য।
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন  হয়েছে। আর এরমধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে। আর তার কয়েকটি শিরোনাম তুলে ধরছি।
১.পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক চলবে, ঝগড়াঝাঁটিও চলবে- প্রথম আলো
২.পাকিস্তানের সঙ্গে কুটিৈতক সম্পর্ক থাকবে ঝগড়াও হবে- যুগান্তর
৩. পাকিস্তানের সঙ্গে ঝগড়া সম্পর্ক দু’টোই চলবে- বাংলাদেশ প্রতিদিন
৪. পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে, ঝগড়াও থাকবে: প্রধানমন্ত্রী- বাংলা ট্রিবিউন
এখানে উদহারণ আরো বাড়ান যায়। তবে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে এই ধরণের শিরোনামেরই প্রাধান্য।
এবার এই একই খবর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম কোন ধরণের শিরোনামে পরিবেশন করেছে তা একবার দেখা যাক-

1.Pak Protest On War Crimes Trial Led To SAARC Boycott: Sheikh Hasina-NDTV
2.SAARC pull out result of Pakistan’s protest on war crimes trial: Sheikh Hasina- Indian Express
3.Bangladesh PM Sheikh Hasina tears into Pakistan, calls it a ‘defeated force’-Zee news

 

বিশ্লেষণ করা আরো সহজ হতো যদি এনিয়ে পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যমের খবর এবং শিরোনাম জানা যেত। আমি সার্চ করেও পাইনি। তবে কেউ পেলে আমাকে ইনবক্স করলে আমি তা যুক্ত করব। এবং সেটাও বিশ্লেষণের চেষ্টা করবো।
এবার দেখা যাক খবরের ভিতরে কী রয়েছে-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের বিরূপ মন্তব্যের পরও দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে। তিনি বলেছেন, দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চলবে, ঝগড়াঝাঁটিও চলবে। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান পরাজিত শক্তি। তাদের পছন্দের লোকেদের বিচার হচ্ছে। তাই তারা তো কাঁদবেই। রোববার(০২.১০.১৬) বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের বিরূপ মন্তব্যের পরও দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে। তিনি বলেছেন, দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চলবে, ঝগড়াঝাঁটিও চলবে। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান পরাজিত শক্তি। তাদের পছন্দের লোকেদের বিচার হচ্ছে। তাই তারা তো কাঁদবেই।
লিখিত বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম প্রশ্ন ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের নানা মন্তব্যের পর দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না? জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুটি দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে। মতভিন্নতাও থাকতে পারে। মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তান শক্তি, তাই তারা তাদের পেয়ারা বান্দাদের জন্য কাঁদছে। কিন্তু আমরা তো বিচার বন্ধ করিনি। বিচার চলছে। পাকিস্তান মন্তব্য করছে, আমরা এর জবাব দিচ্ছি। দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চলবে, ঝগড়াঝাঁটিও চলবে।’
সার্ক থাকার দরকার আছে কি না এবং পাকিস্তানকে বাদ নিয়ে বিকল্প কিছু করার কোনো চিন্তা বাংলাদেশের আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ ব্যাপারে তাঁর একক ভাবে বলার কিছু নেই, সেটা উচিতও হবে না। সার্কের চেয়ারপারসন এখন নেপাল। বাংলাদেশ চেয়ারপারসন বাংলাদেশ নয়। এই সিদ্ধান্ত সবাই মিলে নিতে হবে। সার্কের কি হবে।
পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধ হলে আমাদের অগ্রগতিতেও বাধা সৃষ্টি হবে। আমরা চাই দুই দেশ নিজেরাই তাদের সমস্যার সমাধান করুক।’
আমার কথা
বাংলাদেশ ও ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবরের বিসয়বস্তুতে মূল কোনো পার্থক্য নাই। পার্থক্য শুধু শিরোনামে। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম চেষ্টা করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কুটনৈতিক সম্পর্কের দিকটি স্পষ্ট করতে। আর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম চেষ্টা করেছে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের এখন যে টানাটোড়েন চলছে তাতে পাকিস্তানকে আন্ডারহ্যান্ডে রেখে আপারহ্যান্ডে থাকার। আর ভারতের অবস্থানকে বাংলাদেশের মাধ্যমে জাস্টিফাই করা।
তবে শেখ হাসিনার বক্তব্য সঠিকভাবে পড়লে তার সরকারের বিদেশ নীতি স্পষ্ট। আর তা এক রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনে আরেক রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বে রসায়নে বিশ্বাসী নয় বাংলাদেশ। ভারত এগিয়ে দিলেই বাংলাদেশ যে হঠাৎ করে কোন কিছুতে জড়িয়ে পড়বে তা মনে হয়না। আমার মনে হয়েছে পাকিস্তান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তা যেমন পাকিস্তানের জন্য মেসেজ , তেমনি ভারতের জন্যও মেসেজ। তিনি কুটনীতি ভালোই বোঝেন। এনিয়ে অনন্ত: আমার কোন সন্দেহ নেই।
প্রধানমন্ত্রী সার্ক নিয়ে কথা বলেছেন। বলেছেন সার্কের ব্যাপারে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর সবচেয়ে আকর্ষনীয় যে কথা বলেছেন তা হলো-‘ আমরা যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধ( ভারত-পাকিস্তান) হলে আমাদের অগ্রগতিতেও বাধা সৃষ্টি হবে। আমরা চাই দুই দেশ নিজেরাই তাদের সমস্যার সমাধান করুক।’
বাংলাদেশ আর ভারতের সংবাদমাধ্যমে যার যার দেশের কুটনীতি প্রতিফলিত হয়েছে। যে যার  নিউজ পলিসি দিয়ে খবরের শিরোনাম করেছে। তাই সব শিরোনাম দিয়ে আসল খবর বোঝা যায়না। আবার একই খবরের শিরোনাম সবাই একই রকমের করে না।
তাহলে কী বলতে চাই আমি? আমি বলতে চাই সংবাদমাধ্যম পাঠক দর্শক বা শ্রোতাকে তার লাইনে টানতে চায়। আর পাঠকের কাজ হলো- টু রিড বিটুইন দ্য লাইনস।
কলাবাগান, ঢাকা
০৩.১০.২০১৬

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s