বাড়িওয়ালা জঙ্গি হলে তথ্য দেবে কে?

হারুন উর রশীদ:
পথ চলতে গিয়ে একটি পোস্টারের দিকে চোখ গেলো। লাগানো হয়েছে অনেক আগেই। হয়তো প্রচারমাধ্যমেও এটা প্রচার হয়েছে , কিন্তু আমি খেয়াল করিনি। সেদিন খেয়াল করতেই আমার খারাপ লাগলো। মনে হলো পোস্টারটি তৈরি করার সময় মাথায় সুবিবেচনা বোধ কাজ করেনি।
পোস্টারটি জঙ্গিবিরোধী এবং পোস্টারে লেখা র‌্যাব ফোর্সেস। তাদের লোগোও আছে। আর বড় করে লেখা ‘ভাড়াটিয়ার তথ্য নিন, জঙ্গি হলে ধরিয়ে দিন’। জনসচেতনতায় র‌্যাব ফোর্সেস।
আমার এই পোস্টারটি দেখে মাথায় প্রশ্ন জেগেছে-

১.শুধু কি ভাড়াটিয়ারাই জঙ্গি হয়?
২. বাড়িওয়লারা কি জঙ্গি হয় না?
৩. বাড়িওয়লারা জঙ্গি হলে কে খবর দেবে?
৪. এই আহ্বানের মধ্যে কী একটি শ্রেণির বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ইঙ্গিত করা হয়নি?

আমি বুঝতে পারি সৎ এবং মহান উদ্দ্যেই এই জনসচেতনতামূলক পোস্টারটি প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু এও মনে করে একটু সাবধান হলে, বিবেচনা করলে পোস্টারটি সব পক্ষের জন্যই ভালো এবং কর্যকর হতো। কিন্তু এখন দেখে মনে হয় ভাড়টিয়ার সঙ্গে জািঙ্গর একটি কো-রিলেশন তৈরি করা হয়েছে। উদ্দেশ্য তা না হলেও পোস্টারের ভাষা তা প্রকাশ করছে। আর জঙ্গিতো ভাড়াটিয়া বাড়িওলার বিষয় হতে পারেনা। জঙ্গিতো জঙ্গি।
ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পুরণের উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৫ সালে গুলশান হামলার আগে। এবছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর তৎপরতা বাড়ে। ডিএমপি এপর্যন্ত ২০ লাখ ভাড়াটিয়া পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করেছে রাজধানী থেকে। আমরা জানিনা এর সঙ্গে কতজন বাড়িওয়ালার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কারণ আমরা গুলশান হামলার পর দেখেছি জঙ্গিদের বড় একটি অংশ ঢাকায় বাবার বাড়ি থেকেই জঙ্গি হয়েছে। যদি বাড়িওয়ালার তথ্য থাকতো তাহলে তাদের ওপর নজর রাখলে হয়তো আগেই জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যেত। আর ঢাকায় উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তান যারা জঙ্গি দলে নাম লিখিয়েছে তাদের তথ্য তাদের বাবা বা পরিবারের সদস্যদের আগেই পুলিশকে জানানো উচিৎ ছিলো। তারা না জানিয়ে কি কোনো অপরাধ করেননি? তারাতো সবাই বাড়িওয়ালা ঢাকার অভিজাত এলাকায়।
জঙ্গিদের প্রতি সবার নজর রাখতে হবে সে ভাড়াটিয়া হতে পারে, বাড়িওয়ালা হতে পারে। ভাড়াটিয়ার সন্তান হতে পারে , বাড়িওয়ালার সন্তান হতে পারে। তাই জঙ্গি নিয়ে বাড়িওয়ালা বা ভাড়াটিয়া ভেদের কোনো সুযোগ নাই।
হলি আর্টিজানের পর আমরা দেখেছি ব্যাচেলরদের কেউ বাসা ভাড়া দিতে চায়না। তাদের বাড়িওলারা প্রচারণার কারণে অযথাই সন্দেহ শুরু করে। তবে পরিস্থিতি এখন অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। নতুন কোন প্রচারণার যেন শিকার না হন ভাড়াটিয়ারা।
নাগরিকদের তথ্য সরকারের কাছে থাকতে হবে। এটা শুধু অপরাধ দমন নয়, নানা কজেই লাগবে। ন্যাশানাল আইডিকার্ড তার একটি মাধ্যম। এটা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা উচিৎ। তাহলে কোনো নাগরিকের তথ্য পেতে আর ১০ ধরণের উটকো পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে না। প্রয়োজন পড়বে না কোনো গোষ্ঠী বা শ্রেণির প্রতি ইঙ্গিত করার।
জঙ্গি বা অপরাধের তথ্য পেতে ডিএমপি, র‌্যাব, পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাপস আছে। হটলাইন আছে। আছে ফেসবুক, ওয়েব সাইট। আরো নানা বিষয় চালু করা যায়। সঙ্গে স্লোগানটিও পরিবর্তন করুন। বলুন-‘ আশপাশে নজর দিন , জঙ্গি হলে ধরিয়ে দিন।’
তাহলে ঘরে-বাইরে, লোকালয়ে সবখানে নজর রাখবেন দেশের মানুষ। রুখে দাড়াবেন জঙ্গি সন্ত্রাস।
কলাবাগান, ঢাকা
১৯.১০.২০১৬

One thought on “বাড়িওয়ালা জঙ্গি হলে তথ্য দেবে কে?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s