গ্যাঁড়াকলে মন্ত্রী ছায়েদুল হক নির্দোষদের খুঁজছেন!

minister-pic-1

হারুন উর রশীদ:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু পল্লীতে হামলা নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক গ্যাঁড়াকলেই পড়েছেন বলে মনে হচ্ছে। কার ঘাড়ে দোষ চাপাবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। আপাতত তাই তিনি বলেছেন,‘ কোনো মৌলবি বা হেফাজত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটায়নি, বহিরাগতরা এই হামলা চালিয়েছে।’ ছায়েদুল হক নাসিরনগরের এমপি হলেও ঘটনার পাঁচদিন পর বৃহস্পতিার ক্ষতিগ্রস্ত গৌরমন্দির পরিদর্শন শেষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে ‘মত-বিনিময়’ করেন। আর হামলায় কারা দায়ী তা না বলে, কারা দায়ী নয় তা জানালেন।
তবে আরেক বোমা ফাটিয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সমন্বয়কারী কমিটি। সেটা মন্ত্রীর কথার বিপরীত। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এসইউএম আবদুস সামাদ বলেছেন, ‘কওমি, হেফাজতে ইসলাম ও ওহাবিয়ায় বিশ্বাসী নেতা ও কর্মীরা ‘‘খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত’’ নামে নাসিরনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। হেফাজতের সদস্য ও উপজেলা চত্বরের ইমাম মোখলেসুর রহমান সরাসরি এ হামলায় জড়িত।’
আহলে সুন্নাতের সদস্য সচিব মোসাহেব উদ্দিন বখতিয়ার দাবি করেছেন, ‘নাসির নগরে শান্তিপূর্ণভাবে পুলিশি পাহাড়ায় র‌্যালি করছিলেন তারা। সেখানে উপজেলা চেয়ারম্যান, থানা আওয়ামী লীগ প্রেসিডেন্ট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এএসপি উপস্থিত ছিেেলন।’
তাহলে দেখা যাচ্ছে সেখানে আওয়মী লীগ, উপজেলা প্রশান এবং পুলিশ প্রশাসনও ছিল।
তাহলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভূমিকা কী?
স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. সুরুজ আলী লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল করে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন। সুরুজ আলী তা স্বীকারও করেছেন। তিনি বলেছেন ,‘আমি শুধু ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে রসরাজের (যার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিতর্কিত ছবি আপলোড-এর অভিযোগ করা হয়েছে) ফাঁসি দাবি করেছি। তবে উসকানি দেইনি।’
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও তৌহিদি জনতার পৃথক দুটি সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ টি এম মনিরুজ্জামান। মনিরুজ্জামানও প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে উসকানির দায় তিনি নেননি, বলেছেন, ‘ওই দিন সমাবেশে অংশ নিলেও আমি প্রতিবাদকারীদের থামানোর চেষ্টা করেছি। উসকানিমূলক কিছু বলিনি।’
তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেছেন, ‘উসকানি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ ঘটনার উৎপত্তিস্থল হরিপুর। যে রসরাজ দাসের ফেসবুক থেকে ধর্ম অবমাননার কথা বলা হচ্ছে সে পেশায় একজন জেলে এবং হরিপুর মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। ওই সংগঠনের সভাপতি হলেন ১৯৭১ সালের রাজাকার তাইজুদ্দিন এর ছেলে ফারুক মিয়া। ফারুক আবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ফেসবুকে ঘটনার পর রসরাজকে ফারুক বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশের কাছে সোর্পদ করে।’

2c24f0d67228a90ca48ea63612dde6cd-581ad1d5a3168
মন্ত্রী ছায়েদুল হক নির্দেোষদের খুঁজছেন

ঘটনার তিন দিন পর মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য, প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক নাসিরনগরে যান। তবে তিনি বুধবার সারাদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাননি। স্থানীয় ডাক বাংলোয় অবস্থান করেন। সাংবাদিকরা তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি খারাপ ব্যবহার করেন। সারাদিন কথা বলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে।
এরপর পরিস্থিতি বুঝে বৃহস্পতিবার বিকেলে গিয়ে হিন্দুদের সঙ্গে ‘মত-বিনিময়’ করে জানালেন,‘ হামলার জন্য হেফাজত দায়ী নয়’।
আমরা জানতে চাই কে দায়ী। সেটা কিন্তু মন্ত্রী বললেন না। বলে দিলেন গোয়েন্দা রিপোর্টে আছে বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ তখন কি করেছে? স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাতো প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার কথা স্বীকারই করেছেন। তাদের সঙ্গে আরো কয়েকশ’ নেতা-কর্মী ছিলেন। তাদের হাতে নাকি লাঠিসোটও ছিল। বাকি শুধু উসকানির অভিযোগ। ছিলেন পুলিশের এএসপি । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তাহলে বহিরাগতরা এলো কোথা থেকে? এদের মধ্যে বহিরাগত কারা। মামলার আসামি ১২শ’। প্রশ্ন হল এত বহিরাগত হঠাৎ কোথা থেকে এল, কিভাবে এল?

দোষীদের কি শেষ পর্যন্ত পাওয়া যাবে?
আর কারা দায়ী নয়, তাদের কথা বলার মধ্য দিয়ে মন্ত্রী কী বাকিদের দায়ী করছেন? তাই যদি হয় সেটা খোলাসা করেই বলা উচিৎ। কিন্তু তাও তিনি বলছেন না। আমার মনে হচ্ছে মন্ত্রী এখন বেশ চিন্তায় আছেন কাদের ধরবেন আর কাদের ছাড়বেন। কাদের ভাসাবেন আর কাদের ডোবাবেন। তারা সবাই কি মন্ত্রীর আপন লোক? আপন লোক না হলে এত চিন্তা কিসের? আপনার হাতে নাকি গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে- ধরে ফেলুন না দুর্বৃত্তদের।
আমার মনে হয় আসলে মন্ত্রী হিসাব নিকাশ নিয়ে গ্যাঁড়াকলে পড়েছেন। তাই দায়ীদের না খুঁজে এখন কারা নির্দেোষ তা খুঁজছেন। হয়তো শেষে দেখা যাবে মন্ত্রীর এই নির্দেোষ তালিকা বাড়তে বাড়তে আর লোকই থাববেনা। তখন হয়তো মন্ত্রী বলবেন,‘ বহিরাগতদের পুলিশ চিনবে কিভাবে, তাদের কি নাম ঠিকানা আছে!

কলাবাগান, ঢাকা
০৩.১১.২০১৬

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s