মৎস্যমন্ত্রী ছায়েদুল হকের সঙ্গে উত্তেজনায় ভরপুর ১০ মিনিট, গালিও আছে

sayeduk-haque4444

হারুন উর রশীদ:

অনেক চেষ্টার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু বসতি এবং মন্দিরে হামলার ঘটনায় সমালোচিত ওই এলাকার সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হককে মোবাইল ফোনে পাওয়া গেলো শুক্রবার রাতে। না সরাসরি তার ফোনে নয়, তার পিএস মি. মিজানের ফোনে। মৎস্যমন্ত্রীর একটা মোবাইল ফোন আছে বটে, তবে তা সচল নয়।
আমি যখন তার সঙ্গে কথা বলি তখন তিনি নাসিরনগরের হরিণবেড় থেকে গাড়িতে নাসিরনগর সদরে ফিরছিলেন। ওই হরিণবেড় এলকায়ই ধর্মীয় অবমাননাকর ছবি ফেসবুকে পোস্টের অভিযোগে প্রথম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারপরের ঘটনা সবার জানা। আর মন্ত্রী এখন তুমুল আলোচনায় হিন্দুদের ‘ মালাউনের বাচ্চা’ বলার অভিযোগে।
তার সঙ্গে ফোনে আমি প্রায় ১০ মিনিট কথা বলি। আর সেই কথায় মোটমুটি সব প্রসঙ্গই আসে।
মন্ত্রীর কথার হাইলাইটস
১.আমি হিন্দুদের মালাউনের বাচ্চা বলেছি কে শুনেছে?

২.এখানকার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ভুয়া। সভাপতি করছে আদেইশ্যারে( আদেশ চন্দ্র দেবনাথ) আর সেক্রেটারী করছে সুনীল্যারে( সুনীল)’।
৩. এরা কিসের সাংবাদিক?
৪.হুজুরদের দৌড়াদৌড়িতো ( ৩০ অক্টোবর হামলার ঘটনা) দুই ঘন্টায়ই শেষ, এখন সব ঠান্ডা।
৫. বৃস্পতিবার গোয়ালঘর পুড়েছে,কোনো বাড়ি নয়। চার-পাঁচ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
৬. এলাকায় র‌্যাব আছে, পুলিশ আছে কোনো সমস্যা নাই।
৭. আমি শুরু থেকেই তৎপর ছিলাম। শনিবার(২৯.১১.১৬) রসরাজকেতো ( যার বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্টের অভিযোগ) আমিই টেলিফোন করে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছি।
৮. কে দায়ী তা এখনো বলা যাবেনা। হামলার তদন্ত হচ্ছে আর ছবিরও(ফেসবুক পোস্ট) তদন্ত হচ্ছে।

মৎস্যমন্ত্রী তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কথা বলেছেন। কখনো তিনি ছিলেন বেশ উত্তেজিত আবার কখনো উত্তেজনার পারদ কিছুটা কম। তবে তার ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা আর সাংবাদিকদের প্রতি। তিনি ওই এলাকার হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান ঐক্য পরিষকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেন । তিনি বলেন,‘ সভাপতি করছে আদেইশ্যারে( আদেশ চন্দ্র দাশ) আর সেক্রেটারী করছে সুনীল্যারে( সুনীল)’। সাংবাদিকদের বলেছেন মিথ্যাবাদী। তারা ভাষায় ‘ ওরা কিসের সাংবাদিক, এরা হলুদ কালার সাংবাদিক, কয়েকজন আছে হিন্দু নেতা।’ তিনি বলেন,‘ একজন( সাংবাদিক) খবর দিছে এক হিন্দু না খাইয়া আছে। কিসের? তার জাল পুড়ে গেছে মাত্র। মাছ ধইরা খায়। না খেয়ে নাই।’
তিনি রবিবারের(৩০.১১.১৬) হামলা সম্পর্কে বলেন,‘ আমি ঢাকায় ছিলাম হামলার আগের দিন শনিবারই যে ছেলেটি ফেসবুকে ছবি দিয়েছে তাকে পুলিশে দিয়েছি। রবিবার হামলার খবর পেয়েই আমি ঢাকা থেকে টেলিফোন করে র‌্যাব, বিজবি পাঠিয়েছি। সকাল ১০ থেকে ১২টা’র ঘটনা-দুই ঘন্টার মধ্যে হুজুরদের ধৌড়াদৌড়ি শেষ হয়ে যায়। সব শান্ত হয়ে গেছে। এখন সব ঠান্ডা। সমস্যা নাই।’
দ্বিতীয় দফায় বৃহপস্পতিবার রাতে নাসির নগরে পাঁচটি বাড়ি এবং একটি মন্দিরে আগুন দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন,‘ লাকরির ঘর, খোলা গোয়াল ঘরে রাতে কে বা কারা আগুন দিয়েছে, বড়জোর চার-পাঁচ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
হিন্দুদের ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলে গালি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘ এই… এই কথা? কে বলেছে? তাকে প্রমাণ করতে বলেন। যে বলেছে তাকে হাজির করেন। আমি হিন্দুদের মালাউন বলেছি কেউ প্রমাণ করতে পারবে? নাসিরনগরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা এসেছিলো। আমি জানি তাদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাসগুপ্ত এক সাংবাদিককে একথা বলেছে। সে বলেছে আমি হিন্দুদের মালাউন বলেছি। সে কি নিজে শুনেছে? তাকে প্রমাণ করতে বলেন। তাকে ফোন করে বলেন, প্রমাণ দিতে।
রবিবারের (৩০.১১.১৬) হামলার জন্য কারা দায়ী? আপনি বলেছেন হেফাজত বা মৌলবিরা আগুন দেয়নি। তাহলে কারা দিয়েছে?
-এটা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। আমি কিছু র‌্যাব তথ্য হেডায়োর্টারে পাঠিয়েছি। আবার যে ছেলেটা ছবি দিয়েছে(ফেসবুক পোস্ট) সেই ছবিও হেডাকেয়ার্টারে পাঠিয়েছি। তারা চেষ্টা করছে বের করতে আসলে ছবিটি কে দিয়েছে।


কলাবাগান, ঢাকা
০৬.১১.২০১৬

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s