রসরাজ ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেনি, আসল ক্রিমিন্যালরা কোথায়?

rasraj

হারুন উর রশীদ:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিণবেড় গ্রামের হিন্দু যুবক রসরাজ কি তাহলে ষড়যন্ত্রের শিকার? আর হিন্দুরা কি রাজনীতির গিনিপিগ? ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলার পর যতই দিন যাচ্ছে ততই তা স্পষ্ট হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু যুবক রসরাজের যে ধর্ম অবমাননার ছবির অভিযোগ তুলে হিন্দুদের ওপর হামলা চলছে সেই ছবি রসরাজ ফেসবুকে আপ করেনি। ছবিটি ফেসবুকে আপ করা হয় ঢাকা থেকে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. ছায়েদুল হক রবিবার নাসিরনগরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘রসরাজ দাস ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার ওই ছবি আপলোড করেননি। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি ঢাকা থেকে পোস্ট করা হয়েছে। কারা এই ছবিটি কারা পোস্ট করেছে তার তদন্তও চলছে। এই ছবিটি এখন ফরেনসিক ল্যাবে আছে। নাসিরনগরের দুই চারটা লোক এই ষড়যন্ত্র করছেন, আর কেউ না।’
সাংবাদিকরা ষড়যন্ত্রকারীদের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা ষড়যন্ত্র করছে আমি সবসময় তাদের মোকাবিলা করে আসছি।’
মন্ত্রী এবং তদন্তকারীদের উচিৎ এখন দ্রুত আসল অপরাধীদের চিহ্নিত করা। প্রকৃতই যারা ওই ছবি আপ করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের ওপর উগ্রবাদীরা যে হামলা চালালো সেই উগ্রবাদীদের শাস্তি হবে কবে? হিন্দুরা আর কত ষড়যন্ত্রের গিনিপিগ হবে?
আর স্থানীয় সূত্রমতে, হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ পঞ্চম শ্রেণি পাশ। সে পেশায় একজন জেলে এবং হরিপুর মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
রসরাজের ফেসবুক থেকে ২৮ অক্টোবর যে পোস্টটির কথা বলা হচ্ছে তা ফটোশপে করা। তারপক্ষে ওই ফটোশপ করা সম্ভব করা কিনা সে প্রশ্ন আগেই উঠেছিল। পরদিন পোস্টটি সরিয়ে আরেকটি পোস্ট দেয়া হয়।

screenshot_2016-10-31-00-41-56সেখানে বলা হয়,‘প্রথমেই আমি সকল মুসলিম ভাইদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি কারন আমার অজান্তে কে বা কারা আমার আইডি থেকে একটা ছবি পোষ্ট করছে। কাল রাতে আমি মামুন ভাই আশু ভাই আর বিপুল এর মাধ্যমে জানতে পারি ছবি পোষ্ট এর কথা তার আগ পযর্ন্ত আমি কিছুই জানতাম না জেনে সাথে সাথেই ডুকে ডিলেট করি। যেখানে আমরা বসবাস করি হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই হিসেবে ওইখানে ওই রকম মনমানসিকতা এবং দুঃসাহস অবস্যই আমার নাই।আমি কেন? আমি মনে করি ওই মনমানসিকতা কারও নাই কারও থাকা উচিত ও না। এছাড়া আমাদের মুসলিম ভাইেয়রা আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাবির্ক সহযোগীতা করে থাকেন। ওইখানে আমার আইডি থেকে এমন ছবি আমার অজান্তে কিভাবে পোষ্ট হল কে বা কারা ওই কাজটা করল আমি জানি না। তাই সকলের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থী।’
এই ক্ষমা প্রার্থনা নিয়েও প্রশ্ন আছে। প্রশ্ন হলো পঞ্চম শ্রেণি পাশ একজন এভাবে গুছিয়ে লিখে ক্ষমা চাইতে পারে কিনা।
শুরুতেই যে সন্দেহ ছিলো সেই সন্দেহ এখন বাস্তব হচ্ছে। অতীতেও কক্সবাজারের রামুসহ বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে একইভাবে ফেসবুক পোস্টের গুজব তুলে অথবা অন্যের পোস্ট ট্যাগ করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে। তাই রসরাজকে প্রথমেই আটক না করে উগ্রবাদীদের সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে যদি তদন্ত করা হতো তাহলে হয়তো হিন্দুরা এই আক্রমনের শিকার হতোনা। রসরাজকে প্রথমেই আটক করায় উগ্রবাদীরা ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদের নামে সহজেই মাঠে নামতে পেরেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ নামে এক হিন্দু যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয় যা মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। ৩০ অক্টোবর সকাল থেকে নাসিরনগর উপজেলা সদরের কলেজ মোড় এবং খেলার মাঠে একাধিক ইসলামি দলের নেতারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ তিন থেকে ৪শ’ লোক সংঘবদ্ধ হয়ে উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবার এবং তাদের মন্দিরের ওপর হামলা চালায় তারা। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেও আবার আগুন এবং হামলার ঘটনা ঘটে।


কলাবাগান, ঢাকা
০৬.১১.২০১৬

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s